Monday, June 1, 2026

লালমোহনে দশ হাজার জেলের মাঝে পূর্নবাসনের চাল বিতরণে জটিলতা

লালমোহন উপজেলার চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আত্মগোপনে কারনে জেলে পুর্নবাসনের চাল বিতরণ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য সময় মত পূর্নবাসনের চাল পাচ্ছে না দুই মাসে কর্মহীন হয়ে পরা এই উপজেলার জেলেরা। এ ছাড়াও আগামী দু-চার দিনের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ঈদের ভিজিএফ চাল বিতরণের কথা রয়েছে। এনিয়ে এক ধরণের অস্বস্থির মধ্যে পরেছে উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহ আজিজ জানান, সব ধরনের নাগরিক সুবিধা প্রদান এবং চাল তিরণের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাবো ।
জানা গেছে , লালমোহন উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সব জনপ্রতিনিধিরাই আওয়ামলীগ সমর্থক। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এ উপজেলার সকল চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা একযোগে আত্মগোপনে চলে যায়। গত ৬ মাস ধরে পরিস্থিতি বুঝে এরই মধ্যে কিছু মেম্বার এলাকায় ফিরলেও চেয়ারম্যানরা রয়েছেন আত্মগোপনেই।
উপজেলার ৮নং রমাগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামলীগ সভাপতি এবং ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান তিনি এলাকায়ই আছেন। তার দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যঘাত ইেন। প্রায় অভিন্ন কথা জানালেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও ৯নং লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া। আবুল কাশেম মিয়া জানান, তিনি নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে না পারলেও নাগরিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এলাকার বিএনপি নেতাদের সহযোগীতায় গত ১৯ মার্চ তার ইউনিয়নের কিছু জেলেকে ভিজিএফ জাল দিয়েছেন। তবে এলাকাবাসী বলছেন, এই দুই চেয়ারম্যান ৫ আগষ্টের পর থেকে পাশবর্তী চরফ্যাশন উপজেলা সদরে অবস্থান করে শুধু মাত্র তাদের নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজগুলোর জন্য খুব চুপিসারে ইউপি ভবনে ঢুকে কাজ সেরে আবার দ্রুত চলে যায়। এ অবস্থায় জনসেবা দূরে থাক তাদের টিকটিকিও ছুঁতে পারে না ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
জানা গেছে, গত ১২ মার্চ উপজেলা পরিষদের একটি মিটিংয়ে হাতে গোনা কয়েকজন পুরুষ ইউপি মেম্বারকে দেখা গেলেও তারা এখন এলাকায় নেই। ঐ মিটিং থেকে বেড় হয়ে গ্রামে ফেরার জন্য মেম্বাররা উপজেলা পরিষদের বাইরে রাস্তায় গেলে উপজেলার রমাগঞ্জ ইউপি সদস্য আব্দুস শহিদ মোতাহার হোসেন উশৃংখল যুবকদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হন। ঐ ঘটনার পর থেকে হামলা ও মারধরের ভয়ে এলাকা ছেরেছেন মেম্বাররা। এ অবস্থায় ইউনিয়নগুলোর সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা ( মাস্টার রোল), গুদাম থেকে খাদসষ্য ছার করে নেয়াসহ যাবতীয় কাজ করা ইউপি সচিবদের পক্ষে দূরহ হয়ে পরেছে।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহাম্মদ আখন্দ জানান, উপজেলার ৯টি ইইনয়ন ও একটি পৌরসভায় ২৪ হাজার ৮ শত ৪ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এর মধ্যে মার্চ ও এপ্রিল ২ মাস মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর ১২০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় বেকার হয়ে পরা সাড়ে ১০ হাজার জেলের জন্য মাথা পিছু ৪০ কেজি করে ৪ মাস বিজিএফ চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। গত ১৫ মার্চের মধ্যে চাল বিতরণ করার কথা ছিল। এ জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান- মেম্বারদের অসহযোগীতা ও গাফিলাতির কারনে সময় মত জেলারা চাল না পেলে সরকার অবশ্যই বিকল্প ব্যবস্থা নেবে।
জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নের নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে বহু আগে। এ ৪ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে খোড়া অজুহাতে উচ্চ আদালতে রীট করে রেখেছেনে। অপরদিকে ৫টি ইউনিয়নের নির্বাচিতি পরিষদের মেয়াদ থাকলেও সে সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বারেরা সবাই আওয়ামলীগ সমর্থক হওয়ায় গত ৫ আগষ্টের পর থেকে তারা আত্মগোপনে চলে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহ আজিজ জানান, মেয়াদ উর্ত্তীণ ইউনিয়নগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। কিছু ইউনিয়নে বিভিন্ন জটিলতা দেখিয়ে কে-বা কারা উচ্চ আদালতে রীট করেছে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া মেয়াদ থাকার মধ্যে যে সব ইউনিয়ন গুলোর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা অনুপস্থিত রয়েছেন তাদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, সমাজের গন্যমান্যদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ট্যাগ অফিসারদের মাধ্যমে জেলে পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
২০/৩/২০২৫

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles